
কলকাতা: গণনার ঠিক আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠল বিধাননগরে। বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। শনিবার রাতেই এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা, যা নতুন করে ভোট-পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থান নেওয়া নিয়ে এবং দলীয় উপস্থিতি ঘিরেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। দ্রুতই সেই বচসা স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিণত হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। মাইকিং করে ভিড় সরানোর চেষ্টা করা হয় এবং পরে ব্যারিকেড করে দুই দলের কর্মীদের আলাদা করে দেওয়া হয়। তবুও কিছু সময় ধরে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। বিজেপির দাবি, তাদের তৈরি করা ক্যাম্পে তৃণমূল কর্মীরা দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেয়, যার জেরেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি অকারণে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল, তাদের দাবি বাহিনী তাদের কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে।
এই ঘটনার জেরে গোটা রাজ্যজুড়ে গণনাকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক জায়গায় কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে চারটি গণনাকেন্দ্রকে ‘নো ফ্লাইং জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কোনও রকম বাজি ফাটানো বা বিজয় মিছিল করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে ১৬৩ ধারা জারি করে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে মালদহ জেলায় সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে প্রশাসনের তরফে সর্বদলীয় বৈঠক করা হয়েছে। প্রার্থীদের গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুম ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না ওঠে। জানা গিয়েছে, মালদহ কলেজ এবং পলিটেকনিক কলেজে গণনার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানেই জেলার ১২টি বিধানসভার ভোট গণনা হবে।
গণনার আগে এই ধরনের সংঘর্ষ প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
