
নয়া দিল্লি: আগামী ২০ মে দেশজুড়ে একদিনের জন্য বন্ধ থাকতে চলেছে সমস্ত ওষুধের দোকান। এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশের বৃহত্তম ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস। তাদের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংগঠনের দাবি, করোনা পরিস্থিতির সময় জরুরি পরিষেবা হিসেবে ই-ফার্মেসি বা অনলাইন ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। সেই সময় বাড়িতে বসেই ওষুধ পাওয়া মানুষের জন্য বড় স্বস্তির বিষয় ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরেও এই ব্যবস্থা আগের মতোই চালু রয়েছে। এর ফলে দেশের প্রচলিত ওষুধ বিক্রয় ব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি।
ওষুধ ব্যবসায়ীদের মতে, অনলাইন ফার্মেসির কারণে নিয়মকানুন মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে ওষুধ কেনাবেচা চলছে, যা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়াও তারা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা নিজেদের ইচ্ছেমতো ওষুধের দাম নির্ধারণ করছে এবং অনেক সময় দাম কমানোর কারণে ওষুধের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সংগঠনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল, করোনা সময়ে জারি হওয়া বাড়ি-বাড়ি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ অনুমতিকে ব্যবহার করে ই-ফার্মেসি ব্যবসা এখন অনেক বেশি প্রসার লাভ করেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ওষুধের দোকানগুলির ব্যবসা মার খাচ্ছে এবং ছোট ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন।
এই সমস্ত সমস্যার সমাধান চেয়ে বহুবার ওষুধ কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাই বাধ্য হয়েই তারা এই ধর্মঘটের পথ বেছে নিয়েছে।
২০ মে-র এই একদিনের ধর্মঘটে দেশের সব প্রান্তে ওষুধের দোকান বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যাঁদের নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন, তাঁদের আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও সমস্যার কারণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ধর্মঘট দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়। সরকার বা সংশ্লিষ্ট মহল এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেও নজর রয়েছে সবার।
