
শনিবার দুপুরে আচমকাই দেশের বহু মানুষের স্মার্টফোনে জোরালো সাইরেন বেজে ওঠে এবং স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি সতর্কবার্তা। হঠাৎ এই অভিজ্ঞতায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পরে স্পষ্ট হয়, এটি কোনও বিপদের সংকেত নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ।
সরকার জানিয়েছে, এটি দেশের নতুন ‘সেল ব্রডকাস্ট অ্যালার্ট সিস্টেম’-এর একটি ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক সম্প্রচার। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের সময় দ্রুত নাগরিকদের সতর্ক করা সম্ভব হবে। যেমন সুনামি, ভূমিকম্প, বজ্রপাত, বন্যা কিংবা রাসায়নিক দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রযুক্তির লক্ষ্য।
এই অ্যালার্ট সাধারণ এসএমএসের মতো নয়। এটি ফোনে জোরে সাইরেন বাজিয়ে এবং স্ক্রিনে ফ্ল্যাশিং মেসেজ দেখিয়ে ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যাতে কেউই বার্তাটি উপেক্ষা করতে না পারেন। শনিবার যে বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট করে লেখা ছিল, “এটি একটি টেস্ট অ্যালার্ট, কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে Centre for Development of Telematics (সি-ডট) এবং এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করছে National Disaster Management Authority (এনডিএমএ)। দেশের বিভিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডিভাইসে এই বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে কিনা, সেটিই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাঁরা এই অ্যালার্ট পাননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। মোবাইলের সেটিংসে ‘ওয়্যারলেস এমার্জেন্সি অ্যালার্ট’ অপশন বন্ধ থাকলে এই বার্তা নাও পৌঁছতে পারে। সেটিংসে গিয়ে এই অপশন চালু করলে ভবিষ্যতে এমন সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের টেস্ট অ্যালার্ট ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে চালানো হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নাগরিকদের সতর্ক করা যায়। তাই হঠাৎ ফোনে জোরে অ্যালার্ম বাজলে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, এটি জনসুরক্ষার স্বার্থেই নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উদ্যোগ।
