
অটোয়া: কানাডায় খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই গোষ্ঠীকে কানাডার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রিপোর্ট সংসদে পেশ হতেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খলিস্তানপন্থী সংগঠনগুলি পঞ্জাবকে ভারত থেকে আলাদা করে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। যদিও ভারতে এই গোষ্ঠীর প্রভাব বর্তমানে অনেকটাই কমেছে, কিন্তু বিদেশে বিশেষ করে কানাডা, আমেরিকা ও ব্রিটেনে তাদের কার্যকলাপ এখনও দৃশ্যমান। এর মধ্যে কানাডাকে অন্যতম সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, ২০২৩ সালে হরদীপ সিং নিজ্জর নামে এক খলিস্তান সমর্থকের হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভারত ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সে সময় কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ওই হত্যার সঙ্গে ভারতীয় এজেন্টদের যোগ থাকতে পারে। ভারত সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং উল্টে নিজ্জরকে একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত বলে দাবি করে।
এই ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরমে ওঠে। উভয় দেশই তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। তবে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে নতুন নেতৃত্ব আসার পর। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি খলিস্তান প্রশ্নে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে অতীতের একাধিক ঘটনার উল্লেখও করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় চার দশক আগে কানাডাগামী একটি বিমান বিস্ফোরণের ঘটনায় খলিস্তানিদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে ৩২৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ওই ঘটনার বার্ষিকী পালন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এই রিপোর্ট শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কানাডার অবস্থানের এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
