
সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু গল্প আছে, যেগুলো পর্দায় না এলেও কিংবদন্তি হয়ে ওঠে। সত্যজিৎ রায়-এর ‘দ্য এলিয়েন’ ঠিক তেমনই এক অসমাপ্ত স্বপ্ন, যা আজও আলোচনার কেন্দ্রে।
১৯৬০-এর দশকে, যখন হলিউডে বিজ্ঞানভিত্তিক সিনেমা এখনও নিজের জায়গা খুঁজছে, তখনই সত্যজিৎ এক ভিনগ্রহের বন্ধুসুলভ প্রাণীকে নিয়ে ভাবছিলেন। তাঁর ছোটগল্প ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয় ‘দ্য এলিয়েন’-এর চিত্রনাট্য। সেই সময়েই আর্থার সি ক্লার্ক-এর সঙ্গে আলাপ, আর সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক প্রযোজনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমনকি হলিউডের বড় নামরাও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন এই ছবিতে কাজ করতে।
কিন্তু স্বপ্নটা থমকে যায় জটিল চুক্তি, প্রযোজনাগত সমস্যা এবং সহযোগীদের দ্বন্দ্বে। বিশেষ করে প্রযোজনা সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি ধীরে ধীরে ভেস্তে যায়। অথচ এই চিত্রনাট্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে ঘুরতে শুরু করেছিল।
এর কিছু বছর পর, স্টিভেন স্পিলবার্গ-এর ‘E.T. the Extra-Terrestrial’ মুক্তি পায়। ছবিটি বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে। কিন্তু অনেকেই লক্ষ্য করেন, ‘দ্য এলিয়েন’-এর সঙ্গে এর কিছু মৌলিক মিল রয়েছে,বিশেষ করে বন্ধুসুলভ ভিনগ্রহী ও মানুষের সম্পর্কের দিকটি।
এই মিল নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়। সত্যজিৎ নিজেও মনে করেছিলেন, তাঁর চিত্রনাট্যের ভাবনা হয়তো কোনোভাবে বাইরে পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও স্পিলবার্গ এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো আইনি নিষ্পত্তি হয়নি, কিন্তু বিতর্ক আজও থামেনি।
আসলে এখানে সবচেয়ে বড় কথা একটি অসম্পূর্ণ সৃষ্টি কীভাবে সময়ের থেকেও এগিয়ে থাকতে পারে। ‘দ্য এলিয়েন’ তৈরি হলে হয়তো বিজ্ঞানভিত্তিক সিনেমার ইতিহাস অন্যরকম হত।
এই গল্পে কারও জয় বা পরাজয় নেই। আছে শুধু এক অসমাপ্ত সম্ভাবনা, যা মনে করিয়ে দেয়, সব মহান কাজ শেষ পর্যন্ত পর্দায় আসে না, কিন্তু তবুও তারা ইতিহাসে থেকে যায়।
