
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনা সামনে আসে। যদিও Diamond Harbour এবং Magrahat Paschim-এর ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন হয়েছে, সেই তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে ফলতা জুড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাশিমনগর-সহ একাধিক এলাকায় গ্রামবাসীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার কারণে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় নেতৃত্বের মদতেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শনিবার ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন করতে হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। Ajay Pal Sharma-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন থেকেই ফলতা কেন্দ্রটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। একাধিক বুথে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১৭০ ও ১৮৯ নম্বর বুথে ‘টেপ’ লাগানোর অভিযোগ সামনে আসে। বিরোধী শিবিরের দাবি, মোট ৩০টির বেশি বুথে পুনর্নির্বাচন হওয়া উচিত।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে Election Commission of India। সূত্রের খবর, বিশেষ পর্যবেক্ষক Subrata Gupta ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
এদিকে, ফলতায় অশান্তির ঘটনায় কমিশনের তরফেও রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। যদিও ওই বুথগুলিতে আদৌ পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে, গণনার আগে ফলতার পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, যা প্রশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
