
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোট পর্ব শেষ হতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল Hingalganj। বিজেপির এক পোলিং এজেন্টের বাড়িতে ‘সাদা থান’ ফেলে রেখে ভয় দেখানোর অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, আর সেই সঙ্গে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজনীতি।
অভিযোগ, হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার কালিতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম কালিতলার ২৪৩ নম্বর বুথের বিজেপি কর্মী তথা পোলিং এজেন্ট কঙ্কন বৈদ্যের বাড়িতে রহস্যজনকভাবে সাদা থান ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়—বরং পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের সময় বিজেপির হয়ে কাজ করার ‘অপরাধে’ কঙ্কন বৈদ্যকে লক্ষ্য করে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।
শুধু সাদা থানই নয়, বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকার কিছু তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। ফল প্রকাশের পর ‘দেখে নেওয়া’ হবে বলেও নাকি সতর্ক করা হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে এবং সাধারণ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
তবে সমস্ত অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে All India Trinamool Congress। হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকার বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ নাটক। মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই।” তাঁর দাবি, ভোটের ফলের আগে বিজেপি অযথা পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতা নিতাই সদ্দার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কঙ্কনকে ভয় দেখানোর জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই। এলাকায় সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ যেকোনও সময় বড় কিছু ঘটতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেও একই এলাকায় এক বিজেপি নেতার বাড়িতে সাদা থান এবং হুমকিমূলক বার্তা পাওয়া গিয়েছিল। ফলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে আতঙ্ক বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
সব মিলিয়ে, ভোট মিটলেও উত্তেজনার পারদ কমেনি হিঙ্গলগঞ্জে। এখন দেখার, প্রশাসন এই অভিযোগের তদন্তে কী পদক্ষেপ নেয় এবং আদৌ এই রহস্যের জট খুলে সত্য সামনে আসে কিনা।
