
সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিতর্কিত ছবি পোস্ট করার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল Kolkata Police। কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে।
ঘটনাটি সামনে আসে যখন গৌতম দাস নিজের ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবিতে তাঁকে পুলিশের উর্দিতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিজের চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত’। এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক, যা দ্রুতই রাজ্য রাজনীতির অঙ্গনে আলোড়ন তোলে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল All India Trinamool Congress-এর তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি Jayprakash Majumdar বিষয়টি নিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দেন।
অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পুলিশের এক আধিকারিকের এই ধরনের ছবি পোস্ট করা আচরণবিধি লঙ্ঘনের সামিল এবং তা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ভোটের আবহে এই ধরনের পোস্ট আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলেই দাবি করা হয়।
বিতর্ক বাড়তেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় কলকাতা পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে গৌতম দাসকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি কালীঘাট থানার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় চামেলি মুখোপাধ্যায়ের হাতে, যাতে প্রশাসনিক কাজকর্মে কোনও বিঘ্ন না ঘটে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গৌতম দাসকে স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ থেকে কালীঘাট থানার ওসি হিসেবে আনা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এই বিতর্কিত পোস্টের জেরে তাঁকে সাসপেন্ড হতে হল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারি আধিকারিকদের আচরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিয়মাবলি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
