
দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে নেতা নির্বাচিত হন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের জয়ী বিধায়ক Suvendu Adhikari। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র উপস্থিতিতে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর প্রথম ভাষণেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন তাঁর সরকারের মূল দর্শন। তিনি বলেন, “আমি নয়, আমরা এই নীতিতেই কাজ করবে সরকার।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দলীয় ঐক্য, উন্নয়ন এবং মানুষের আস্থার বার্তা। বহু বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখাই হবে সরকারের প্রথম দায়িত্ব।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-কে “আধুনিক ভারতের চাণক্য” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলাকে “সোনার বাংলা” গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে নতুন সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে মহিলাদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের ওপর।
রাজনৈতিক আবেগের মুহূর্তে শুভেন্দু স্মরণ করেন তৃণমূল আমলে নিহত বলে দাবি করা ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকেও। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “দলীয় কর্মীদের আত্মত্যাগ এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই আজ এই সাফল্য এসেছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং কর্মীদের প্রতি আস্থা।
এদিন শুভেন্দুর আরেকটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে—“ভয় আউট, ভরসা ইন।” তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন ভয় এবং অস্থিরতার রাজনীতি দেখেছে, এবার তারা উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা চায়। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করবে নতুন সরকার।
শনিবার ব্রিগেডে হতে চলা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নতুন সরকারের হাত ধরে রাজ্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।
