দুবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তিনি। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হয়ে বসাটা কোনও মুখের কথা নয়। তবে এতেই শেষ নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প চান ক্ষমতার বৃত্তে থাকতে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে। কিন্তু তাতে বড় বাধা মার্কিন দেশের আইন। সেই বাধা দূর করতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে একটি প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডার বা নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৫ মার্চ “প্রেসারভিং অ্যান্ড প্রোটেক্টিং দ্য ইন্টিগ্রিটি অফ আমেরিকান ইলেকশন্স” শীর্ষক এই আদেশে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এটি “যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী নির্বাহী সিদ্ধান্ত”। তাঁর যুক্তি, এই পদক্ষেপ নির্বাচনে “ব্যাপক কারচুপি” রোধ করতে নেওয়া হয়েছে। আর এই প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের বিরুদ্ধেই ডেমোক্র্যাটিক দল আদালতে মামলা করেছে।
ট্রাম্পের নতুন আদেশে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সংশোধনী রয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে ভোটারদের এখন পাসপোর্ট বা অন্যান্য ডকুমেন্ট দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে, নইলে ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন না এবং নির্বাচনের দিনের পর পাওয়া ডাক-ভোট গণনা করা হবে না। ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ভারতের ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ভারত, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, যেখানে ভোটারদের সঠিক নিবন্ধন নিশ্চিত করা হয়। আমেরিকাতেও এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন।” যদিও ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, এই নতুন নিয়ম লক্ষাধিক ভোটারকে বঞ্চিত করতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি, সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ও হাউস নেতা হাকিম জেফ্রিজের নেতৃত্বে আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, “প্রেসিডেন্টের নির্বাচনের নিয়ম একতরফা পরিবর্তনের কোনো অধিকার নেই।”
তবে নানা অভিযোগ উঠেলেও এই আদেশে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো কথা নেই। তবে এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বলেছেন, “আমি তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে হাসছি না… এটা সম্ভব করার উপায় আছে।”
যদিও মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেন না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একমাত্র ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট চারবার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৫১ সালে এই সংশোধনী আনা হয় যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। আর ট্রাম্প ট্রাম্প যদি তৃতীয় মেয়াদ চান, তাহলে সংবিধান সংশোধন করতে কংগ্রেস ও ৫০টি রাজ্যের আইনসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে—যা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
Leave a comment
Leave a comment
