মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য শুল্ক চাপানোর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ‘শক্তিশালী পরিকল্পনার’ পথে হাঁটছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুল্ক বাড়ালে সেদেশের বিরুদ্ধে যাতে ‘প্রয়োজনে’ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে এক ‘শক্ত পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপ।
কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প ২ এপ্রিলকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘লিবারেশন ডে’ হিসেবে প্রচার করে আসছেন।ক্ষমতায় এসেই নানা দেশের ট্যাক্স নিয়ে তোপ দেগে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ বর্ধিত আমদানি শুল্কের কারণে রফতানি করা যাচ্ছে না একাধিক পণ্য৷ এবার সেই সমস্যার সমাধানে পারস্পরিক শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।২ এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার থেকে ধার্য করা হবে নয়া এই শুল্ক নীতি৷ ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক বাড়তে চলেছে ওয়াশিংটন৷ যদিও আজ ট্রাম্প ঠিক কী ঘটাতে চলেছেন তা নিয়ে অনিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।তবে কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন,সমহারে শুল্ক ঘোষণা করতে পারেন তিনি।রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই নতুন শুল্ক বিশ্বের প্রতিটি দেশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে৷ হোয়াইট হাউসের মতে বিদেশি দ্রব্যের উপর নতুন শুল্কের কারণে প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার লাভ হবে অ্যামেরিকার৷
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন এক বক্তৃতায় বলেছেন, “ইউরোপ এই দ্বন্দ্ব শুরু করেনি।আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই না। কিন্তু যদি প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশোধ নেওয়ার শক্ত পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেটি আমরা ব্যবহার করব।” তবে ‘শক্তিশালী পরিকল্পনা’ টি ঠিক কী সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ইইউ প্রধান৷
অবশ্য এরই মধ্যে ইউরোপের উপর বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প৷ এরমধ্যে রয়েছে ইউরোপে উৎপাদিত গাড়ির উপর ২৫ ভাগ শুল্ক আরোপ৷ ইইউ পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট ভন ডার লিয়েন বলেন, আমরা আমাদের পদক্ষেপ ঠিক করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করব৷ পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে সে বিষয়ে জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি৷ ভন ডার লিয়েন তাঁর বক্তব্যে বলেছেন যে ইউরোপ সমঝোতা করার জন্য খোলামন নিয়েই রয়েছে।বাণিজ্য থেকে প্রযুক্তি,বাজারের আকারসহ অনেক কার্ডই ইউরোপের হাতে রয়েছে।
একদিন আগেই কেন তারা বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক চাপাতে চান তার যুক্তি দিতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, “দুর্ভাগ্যবশত দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় জর্জরিত আমাদের দেশ৷” শুল্কের একটি তালিকাও পেশ করেন তিনি৷ লেভিট জানান, মার্কিনি দুগ্ধজাত পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন দেশে থেকে যাওয়া চালের উপর ৭০০ শতাংশ শুল্ক নেয় জাপান, মার্কিনি কৃষিজাত পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক নেয় ভারত৷ আমেরিকায় তৈরি বাটার ও চিজের উপর ৩০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে কানাডা৷ ওয়াশিংটনের অভিযোগ বিরাট শুল্কের ফলে এই সমস্ত দেশে পণ্য রফতানি প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই সমস্যার সমাধানের জন্যই ট্রাম্প ২ এপ্রিল থেকে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক ধার্য করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন৷ আর বিশেষ এই দিনটিকে আমেরিকার লিবারেশন ডে বা মুক্তি দিবস বলে উল্লেখ করেন তিনি৷
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য ঘোষণার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে কানাডা ও এশিয়ার কিছু দেশ।ভারত এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পথে থাকা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আছে চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। ট্রাম্পের পরিকল্পিত রপ্তানি শুল্ক প্রথমবারের তুলনায় বেশি কড়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।প্রথম দফায় চিনের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন ট্রাম্প। কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।এ ছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভারত ও জাপানের ওপরও শুল্কের খড়্গ ঝুলিয়ে রেখেছেন।সোজা কথায় ট্রাম্প ব্যবস্থা নিলে শুল্ক যুদ্ধের পথেই হাঁটতে চলেছে বিশ্ব।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
