বাণিজ্যযুদ্ধে এবার যেন মরচে পড়া তরবারি নয়, টানটান তরোয়াল হাতে নামল আমেরিকা! হোয়াইট হাউসের স্পষ্ট বার্তাকে পাত্তাই দিল না চিন—উল্টে আমেরিকার পণ্যে সটান ৩৪ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়ে দিল। আর তাতেই ক্ষেপে আগুন ট্রাম্প প্রশাসন। পাল্টা চাল দিতে এক মুহূর্ত দেরি করল না তারা।
ঘোষণার সুরে কড়া বার্তা—চিন থেকে আসা সমস্ত পণ্যের গায়ে এবার লাগবে ১০৪ শতাংশ শুল্কের ঠোকর! ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এই নতুন নিয়ম, যা নিঃসন্দেহে চিনা পণ্যের দামকে উড়িয়ে দেবে আকাশে। দুই দেশের এই শুল্ক-পাল্টা শুল্কের খেলায়, বাজারে ঝড় তুলতে চলেছে দাম, আর সাধারণ মার্কিন ক্রেতার মুখে পড়ছে কড়া লেবুর স্বাদ!
অর্থনৈতিক মহলে এখন চাঞ্চল্য—চিনের পণ্যে শুল্কের যে ‘ঝড়’ বইছে, তাতে আমেরিকায় সেই জিনিসপত্রের দাম যে আকাশ ছুঁতে চলেছে, তা নিয়ে আর সংশয় নেই। মার্চ মাসে যেখানে চিনা পণ্যে মাত্র ১০ শতাংশ শুল্ক ছিল, এপ্রিল পড়তেই ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক সিদ্ধান্তে সেই হার একলাফে পৌঁছয় ৪৪ শতাংশে।
কিন্তু এখানেই থামে না চমক! হোয়াইট হাউস এরপর জানায়, বিশ্বজুড়ে সমস্ত আমদানি পণ্যের উপর আরও ১০ শতাংশ করে বাড়তি শুল্ক চাপানো হবে। ফলে চিনের ক্ষেত্রে মোট শুল্ক গিয়ে ঠেকে ৫৪ শতাংশে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের কাঁধে চাপবে অতিরিক্ত খরচের বোঝা, আর চিনা পণ্যে হাত দিতে গেলে মার্কিন নাগরিকদের পকেটেও লাগবে জোরালো ধাক্কা।
চিনও পাল্টা চাল দেয়, আমেরিকার পণ্যে চাপায় ৩৪ শতাংশ বাড়তি শুল্ক। প্রতিক্রিয়ায় বেজিংকে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়ে দেয়—শুল্ক না কমালে আরও বড় ধাক্কা আসবে।
শেষমেশ কড়া পথে হাঁটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—চিনা পণ্যে ‘শুল্কবোমা’ ফাটিয়ে দিলেন নিজের কলম দিয়ে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিশোধের খেলায় পিছপা নয় আমেরিকা। ১০৪ শতাংশ শুল্ক এখন থেকেই স্থায়ীভাবে জারি থাকবে চিন থেকে আমদানি হওয়া জিনিসপত্রে। বেজিংয়ের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন বাজারে বইয়ে দেবে দামের ঝড়, যার ভার নিতে হবে সোজা মধ্যবিত্ত আমেরিকান ক্রেতাদের।
এই ট্যাক্স যুদ্ধ আদতে পরিণত হয়েছে ‘কে কাকে আগে টলাবে’ সেই মানসিক দ্বন্দ্বে। দুই দানব অর্থনীতির এমন ঠেলাঠেলিতে বিশ্বজুড়ে শোরগোল—এই সংঘাত কতদূর গড়াবে? কেউ জানে না।
ওয়াশিংটন আর বেজিংয়ের এই দড়ি টানাটানির জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে ভূকম্প হতে চলেছে, তা নিয়ে মাথাব্যথা শুরু হয়েছে বাকিদেরও। এখন প্রশ্ন একটাই—কে প্রথম চোখের পাতা ফেলবে? আর তার আগেই কি ক্রেতাদের পকেট সাফ হয়ে যাবে?
