মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশে সফরের জন্য মার্কিন নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক করল মার্কিন প্রশাসন।মার্কিন বিদেশ দফতরের এক নির্দেশিকায় এমনটা জানানো হয়েছে।১৮ এপ্রিল জারি করা এক নির্দেশিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য ‘লেভেল ত্রি – রিকনসিডার ট্রাভেল’ বা পুনর্বিবেচনা করার মত ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।বাংলাদেশে নাগরিক অস্থিরতা, অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদের মত বিপদের কারণে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকা (চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস) জন্য আরও কঠোর ‘লেভেল ফোর – ভ্রমণ করবেন না’ এমন নির্দেশিকা জারি করেছে। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলাগুলোকে—বিশেষভাবে বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট অনুযায়ী নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস এলাকায় ভ্রমণ করবেন না— সাম্প্রদায়িক হিংসা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিপদ রয়েছে এখানে।” মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, “এই অঞ্চলে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক বিবাদের কারণে সংঘটিত অপহরণ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সংঘটিত অপহরণ।বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এবং রাজনৈতিক হিংসাও এই অঞ্চলের দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি হুমকি সৃষ্টি করছে। বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা ও গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে।”
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন।তথ্য বলছে এরপর থেকেই দেশজুড়ে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বেড়ে যায়।বর্তমানে শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শাসন করছে বাংলাদেশকে। এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনও কাটেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন জানিয়েছে, “পরিস্থিতি এখনও খারাপ।”
ট্রাভেল নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “২০২৪ সালের গ্রীষ্মের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার ফলে সহিংসতা কিছুটা কমলেও মাঝেমধ্যে বিক্ষোভ চলছে, যার মধ্যে হঠাৎ সহিংসতা ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।” বলা হয়েছে , “শান্তিপূর্ণ জমায়েতও হঠাৎ করে সহিংস হয়ে উঠতে পারে—তাই আমেরিকার নাগরিকদের সব ধরনের জনসমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতেও সাধারণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।বাংলাদেশে ঘুরতে যাওয়া মার্কিন নাগরিকদের পকেটমারির মতো ছোটখাটো অপরাধের বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছে সেদেশের বিদেশ দফতর। পাশাপাশি বলা হয়েছে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কা রয়েছে।এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতি, হামলা, এবং মাদক পাচারের মতো সাধারণ অপরাধের বিপদও রয়েছে বলে বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে, ঢাকার কূটনৈতিক এলাকার বাইরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে কোথাও যেতে হলে তাদের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।
