মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।রোববার আইসিটি’র প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ডেইলি স্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাড়ে আট হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আইসিটিতে জমা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং অভ্যুত্থানের সময় আইজিপির দায়িত্বে থাকা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়েছে এ মামলায়।গোটা বিশ্বের সামনে এই বিচারকাজ তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।সেই কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় গত ১২ মে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্তারা।সেই তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার নাম উঠে আসে।গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে রবিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের দফতরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং যাবতীয় দলিল জমা দেওয়া হয়। পরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ১৩৪ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্র বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন। শেখ হাসিনার অপরাধের বিচার যাতে গোটা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করতে পারে সেজন্য এই পক্রিয়া লাইভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনুস সরকার।মামলায় হাসিনাকে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলন দমনে ‘মাস্টারমাইন্ড’, ‘হুকুমদাতা’ ও ‘সুপিরিয়র কমান্ডার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার।
