‘নতুন বাংলাদেশে’ এর আগে ভাঙা পড়েছে ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক ভিটে! দুষ্কৃতী হানায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে স্মৃতি বিজড়িত সেই বাড়ি। এবার ইউনূসের বাংলাদেশে রক্ষা পেলেন না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। ভাঙচুর চালানো হল কবিগুরুর কাছারিবাড়িতে। অবাধে চলল ভাঙচুর। এমনকী সেখানকার কর্মীদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কাছারিবাড়ি। এই বাড়িকে ঘিরে আছে একাধিক ইতিহাস। যা ওপার বাংলার মানুষের কাছে গর্বের। আর সেখানেও হামলা? কিন্তু কেন?
স্থানীয় পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত। শাহ নেওয়াজ, তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়িতে ঘুরতে যান। সেখানে তাঁর কাছ থেকে পার্কিং ফি নেওয়া হলেও কর্তব্যরত কর্মীরা কোনও টোকেন দেয়নি। যা নিয়ে শাহ নেওয়াজের সঙ্গে কর্মীদের ব্যাপক বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, কর্মীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, এই ঘটনার পরেই একদল মানুষ স্মৃতিবিজড়িত কাছারিবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এবং অবাধে ভাঙচুর চালাতে শুরু করে। রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টোডিয়ানের অফিস, লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়ামের জানালা এবং দরজা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকী সেখানকার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় মানুষজনের দাবি, অশান্তির আবহে একদল কট্টরপন্থী মৌলবাদী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। একেবারে পরিকল্পনা করেই এই হামলা বলেও দাবি। ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা যুক্ত তা খতিয়ে দেখছে। কিন্তু ঘটনার প্রায় কয়েক ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। কাউকে গ্রেফতার করেনি বলেই দাবি।
বলে রাখা প্রয়োজন, ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারের কাছ থেকে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর সমস্ত সম্পতি কিনে নেন। সেই মতো ঠাকুরবাড়ির মালিকানায় আসে এই কাছারি বাড়িটিও। বহুবার এই বাড়িতে পা রেখেছেন বীন্দ্রনাথ। ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটিকে সংরক্ষণের ঘোষণা করে। ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি সেই বাড়ি। যা এখন রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর নামে ওপার বাংলার মানুষের কাছে পরিচিত।
