সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
অতিবৃষ্টির জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় প্লাবন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় যাচ্ছে বিশেষ সরকারি দল। হাওড়া-হুগলিসহ বেশ কিছু জেলায় যাচ্ছে এই বিশেষ দল। নবান্নে মুখ্য সচিবের সঙ্গে বিভিন্ন দফতরের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন বিভিন্ন জেলাশাসকের সঙ্গেও বৈঠক করেন মুখ্যসচিব। এই বৈঠকেই জেলা সফরে বিশেষ সরকারি দলকে পাঠানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনগুলোর কাছ থেকে প্রবল বৃষ্টির জেরে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।
অতি বৃষ্টির ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। বিভিন্ন দফতর ও জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব। একাধিক জেলায় বিশেষ দল পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হুগলির গোঘাট-খানাকুলে বিশেষ প্রতিনিধি দল যাবে বলেই ঠিক হয়েছে বৈঠকে। বাঁকুড়ায় যাচ্ছেন কৃষি দফতরের সচিব ওঙ্কার সিং মিনা। হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরে পূর্ত দপ্তর ও সেচ দফতরের আধিকারিকরা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট দেবেন। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সেখানকার পরিস্থিতির রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময় অন্তর নবান্নতে পাঠাতে নির্দেশ। বৃহস্পতিবার হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে মূলত বৈঠক করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। বিভিন্ন জেলার নদীর জলের উচ্চতার উপর নজর রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সাপে কাটার ওষুধ থেকে দরকারি সমস্ত ওষুধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত অঞ্চলে অতি বৃষ্টির ফলে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেখান থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনার উদ্যোগ ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন নিয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রাখার ব্যাপারেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নের অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘন্টা খোলা থাকছে। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন জেলার কন্ট্রোল রুমগুলো সক্রিয় করতে বলা হয়েছে।
