‘জুস সোলি’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে আপাতত বিতর্ক চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া যে কোনও শিশু, তার মা-বাবা বিদেশি হলেও, স্বাভাবিক নিয়মে নাগরিকত্ব পায়। কিন্তু এই আইন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাবরের আপত্তি। তিনি মনে করেন এর ফলে সে দেশে অভিবাসী সমস্যা বেড়েছে।
প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হয়েই তিনি এ বিষয়ে আইন বদলানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ জানুয়ারি তিনি এ বিষয়ে একটি নির্দেশ জারি করেন। তিনি চান, অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ করতে।
কিন্তু সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে যায় বেশ কয়েকটি সংগঠন। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত ২২টি রাজ্যও এর বিরুদ্ধে আদালতে যায়। কয়েকটি মামলায় ধাক্কা খায় ট্রাম্প প্রশাসন। অবশেষে শুক্রবার কিছুটা স্বস্তি পেল তারা।
এদিন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতগুলিকে বলেছে, তারা এ বিষয়ে দেশজোড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে না। এই রায়ের অর্থ হল, রিপাবলিকানদের দ্বারা পরিচালিত ২৮টি রাজ্য এ বিষয়ে ট্রাম্পের নির্দেশ মানতে ও কার্যকর করতে পারবে। কিন্তু ডেমোক্র্যাট শাসিত রাজ্যগুলিকে যে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশ মানতেই হবে, এমন কোনো দিশা নেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। যদিও সামগ্রিক ভাবে এই রায় স্বস্তি দিয়েছে ট্রাম্পকে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘অবশেষে আমি জয়ী। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর আমি শীঘ্রই নয়া নীতি প্রণয়নের পথে এগোবো । এতদিন যেভাবে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকার ছিল, তা রদ করা হবে।’
এদিন ট্রাম্প রূপান্তরিত নাগরিক এবং পরিযায়ী প্রবেশের বিষয়টি ফের তুলে ধরেন। সাফ জানান, এবার রূপান্তরিত নাগরিক বা অনুপ্রবেশকারীদের অর্থ সাহায্যকারীদের উপরও নজরদারি চালাবে প্রশাসন।
যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে আইন প্রণয়ন করতে এখনও বেশ কিছু আইনি বাধা পেরোতে হবে ট্রাম্পকে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
