কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত বছর উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। কড়া হাতে সেই আন্দোলনকে দমন করার নির্দেশ দেন সে দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ পুলিশের গুলিতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। শুধু তাই নয়, আন্দোলনকে থামাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা। সম্প্রতি একটি অডিয়ো বার্তা ফাঁস হয়। আর সেই অডিয়ো বার্তা ফরেন্সিক পরীক্ষা করে চাঞ্চল্যকর দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির। তাদের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া অডিয়ো বার্তাটি হাসিনারই।
যেখানে এক নিরাপত্তা আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। আর ওই ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের উপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ হাসিনা দিচ্ছেন বলে দাবি বিবিসির। প্রকাশিত খবরে ফোনের অন্যদিকে থাকা নিরাপত্তা আধিকারিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে হাসিনাকে নাকি সামনে আসা ফোনালাপে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আন্দোলনকারীদের যেখানেই দেখবেন, গুলি মারুন’। বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও শেখ হাসিনার ওই অডিও বার্তা জমা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের তরফে।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
কখন এই আদেশ দেন?
বিবিসিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি গণভবনেই ছিলেন বলেও দাবি। প্রকাশিত খবরে আরও দাবি করা হয়েছে যে, হাসিনার এহেন নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পরেই রাজধানী ঢাকাতে সামরিক অস্ত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশ প্রশাসন। এই সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে এমনটাই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক ওই সংবাদমাধ্যম। যদিও প্রবল চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন হাসিনা।
আরও পড়ুন
বর্তমানে ভারতের গোপন এক এলাকায় রয়েছেন শেখ হাসিনা। যদিও দেশ ছাড়ার পর প্রথমবার্তায় তাঁর দাবি ছিল, আন্দোলনকারীদের উপর কোনও বলপ্রয়োগে নির্দেশ তিনি দেননি। এমনকী সম্প্রতি বার্তাতেও হাসিনা জানিয়েছেন, কাউকে হত্যার নির্দেশ তিনি দেননি আন্দোলনের সময়। কিন্তু ফাঁস হওয়া অডিও তাহলে কার? বিবিসির প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, সামনে আসা অডিওটিকে ফরেন্সিক এক্সপার্টদের দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। সেটি যে ভুয়ো সেই সংক্রান্ত প্রমাণ বিশেষজ্ঞরা পাননি বলেও দাবি। যদিও আওয়ামী লীগের তরফে এই খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত বছর এই সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল হয় বাংলাদেশ। দলে দলে মানুষ পথে নামেন। যদিও পরে এই আন্দোলনের অভিমুখ ঘুরে যায়। শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়ে গণভবনের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে ১৪০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বলে দাবি।
