নিজভূমেই যেন পরবাসী খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক এ ঘটনারই শিকার হলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। নিজের ঘোষিত কর্মসূচি পালনে অনুমতি পেলেন না মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এমনকি পাঁচিল টপকে সেই কর্মসূচি পালন করতে গেলে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হলো জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে। আর এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুদিন আগেই ওমর নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর গতকাল অর্থাৎ রবিবার এই ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে আশায় গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন তুলে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই ডোগরা সেনার গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ২২ জন নিরীহ কাশ্মীরি। প্রতিবছর এই দিনটি ‘কাশ্মীর শহিদ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। সেই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নওহট্টার কাছে নকশবন্দ সাহেব কবরস্থানে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীরে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কনফারেন্স। কিন্তু শনিবার শ্রীনগর পুলিশ প্রশাসনের তরফে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে শ্রীনগর পুলিশ এক জনস্বার্থ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, “১৩ জুলাই (রবিবার) খাজা বাজার, নওহট্টা অভিমুখে যাত্রার উদ্দেশ্যে করা সমস্ত আবেদন খারিজ করা হয়েছে।”
এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ও জম্মু কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে এবং শহিদ কবরস্থানে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। পরে তিনি পাঁচিল টপকে কবরস্থানে প্রবেশ করেন এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন,“ শহিদদের কবরস্থানে যাওয়া ভুল কোথায়? এ শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার শামিল। একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত ও দুর্ভাগ্যজনক।
