মনে পড়ে যাচ্ছে ১৯৯৯ এর সচিন তেন্ডুলকরকে। কিংবা ২০০৬ -এর বিরাট কোহলিকে। নিজের বাবাকে হারিয়েও কর্তব্য থেকে পিছু হটেননি ভারতীয় ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি। তাঁদের হার না মানা লড়াই মঙ্গলবার আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন এরিয়ানে’র রাজু ওঁরাও। একই সঙ্গে তিনি ফিরিয়ে আনলেন সপ্তাহখানেক আগের আগের অর্ণব দাসকেও। মাকে হারানোর পর কার্যত চিনের প্রাচীর হয়েই দাঁড়িয়েছিলেন যিনি মামনি পাঠচক্রের গোলপোস্টে। রুখে দেন ইস্টবেঙ্গলের মত শক্তিশালী দলকে।
সচিন-বিরাট কিংবা অর্ণবদের মন্ত্রেই যে তিনি দীক্ষিত, মঙ্গলবার কলকাতা লিগে তা দেখিয়ে দিলেন ২৭ বছরের রাজু ওঁরাও। সদ্য বাবাকে হারিয়ে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন রাজু। শুধু খেললেনই না। সেই সঙ্গে গোল করে জয় এনে দিলেন নিজের দল এরিয়ানকে। আর এটিই চলতি কলকাতা লিগে প্রথম জয় এরিয়ানের। যা দেখে বলতে ইচ্ছে করছে, জৌলুস হারিয়েও সগৌরবে বিরাজমান ১২৭ বছরের প্রাচীন কলকাতা ফুটবল লিগ।
বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে গায়ে অশৌচের কাছা জড়িয়েছিলেন রাজু। সেই অবস্থাতেই ঠিক করে ফেলেন নিজের লক্ষ্য। হ্যাঁ, খেলতেই হবে তাঁকে। দলকে এনে দিতে হবে জয়। চলতি মরশুমে একেবারেই ছন্দে নেই এরিয়ান দল। মাঝে কোচও বদল হয়েছে। এই অবস্থায় রাজুর কাছে তাই কর্তব্যই ছিল সবার আগে। ঠিক যেমন ছিল সচিন কিংবা বিরাটের কাছে। একজন পিতার মৃত্যু সংবাদে বিহ্বল হয়েও ফিরে এসেছিলেন বিশ্বকাপ খেলতে। অন্যজন জন্মদাতার শেষকৃত্য স্থগিত রেখে খেলেছিলেন দলকে ফলো অনের হাত থেকে বাঁচানো ইনিংস।
তা হলে অর্ণব-রাজুরাই বা পিছু হটবেন কেন? কথা দিয়েছিলেন এরিয়ানের কোচ রাজদীপ নন্দী। রাজু যদি খেলেন তা হলে তাঁকে নিশ্চিতভাবেই প্রথম একাদশে রাখবেন। কথা রেখেছেন এরিয়ান কোচ। একইভাবে কথা রাখলেন রাজুও। যে কথা নিজেই নিজেকে দিয়েছিলেন তিনি। সচিন, বিরাট এবং অর্ণবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। ভাগ্যিস কথা রাখলেন রাজু! তাই তো হাজার লজ্জার মাঝেও মাথা উঁচু করে টিকে থাকল এশিয়ার প্রাচীনতম কলকাতা ফুটবল লিগ। সেইসঙ্গে জিতে গেলেন রাজুর প্রয়াত জন্মদাতাও। খেলার মাঠে এভাবেই বারবার জিতে যান এ দেশের সার্থক পিতা-মাতারা।
