হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টরেল, হাইপারটেনশন এই রোগগুলি চিকিৎসাশাস্ত্রে ক্রনিক রোগের অন্তর্ভুক্ত। সমগ্র বিশ্বজুড়ে এক বিশাল সংখ্যক মানুষ এইসব রোগে ভুগে মারা যান। তবে আশার কথা হল সম্প্রতি ক্রনিক রোগের প্রকোপে মৃত্যু হওয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে । তবে এর মধ্যে পিছিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ক্রনিক রোগের ফলে হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও অনেকটাই বেশি । লন্ডনের দ্য ইম্পেরিয়াল কলেজের পক্ষ থেকে করা এই সমীক্ষাটি কিছুদিন আগে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনপ্রিয় সাময়িকী দা ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে বিভিন্ন দেশে ক্রনিক ডিজিজ যাতে বেশি বেশি করে মৃত্যুর কারণ না হয়ে উঠতে পারে তার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার নানান গঠনমূলক ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে দেখা গেছে প্রতি পাঁচটি দেশের মধ্যে চারটিতেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি ও মানুষকে সচেতন করার ফলে ক্রনিক রোগের ফলে হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে। এর সঙ্গে সম্মিলিত রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়েছে বেশ কিছু উল্লেখজনক পদক্ষেপ, যার মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রনিক ডিজিজে মৃতের সংখ্যা একেবারে কমিয়ে আনার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
ক্রনিক ডিজিজগুলিকে নন কমিউনিকেবেল ডিজিজ বা এনসিডি বলেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে উপরোক্ত বর্ণিত রোগগুলি ছাড়া কিডনি ও লিভারের সমস্যা, স্নায়ুর সমস্যা অন্তর্গত।
পরিসংখ্যান বলছে প্রতি দু সেকেন্ডে NCD তে ৭০ বছরের কম বয়স্ক মানুষ অন্তত একজন করে মারা যান । সমগ্র বিশ্বে ২০২১ সালে এনসিডিতে প্রায় ৪৩ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে । গবেষকদের বক্তব্য এই মৃত্যুগুলিকে অনেকাংশে আটকানো যেত যদি সঠিক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া যেত। এছাড়া নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা, নিয়মিত শারীরিক চেকআপ আর বেশ কিছু সচেতনতা অবলম্বন করে চলা এবং বাড়িতে যত্ন আত্তির ব্যবস্থা করা এর মাধ্যমেই এনসিডিকে অনেকাংশে কাবু করা যায়। তার সঙ্গে সম্মিলিত রাষ্ট্রপুঞ্জর নির্ধারিত নিয়মবিধি পালন করলে বাড়বে পরমায়ু, কমবে এনসিডি- তে অকালমৃত্যুর সম্ভাবনা।
নতুন গবেষণার পরিসংখ্যান বলছে বিগত দু’দশকে ক্রনিক রোগে মৃত্যুর হার অন্ততপক্ষে ৮০ শতাংশ কমেছে । তবে উচ্চ আয়ের দেশগুলি বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের ক্রনিক ডিজিজে মৃত্যুহার ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পূর্ব দশকের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। ওই অঞ্চলগুলিতে যেমন দ্রুত নজরদারি প্রয়োজন তেমনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ যাতে হয় সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার।
Leave a comment
Leave a comment
