নীরবতা ভাঙলেন পাঞ্জাবি অভিনেতা-গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ। তাঁর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া কনসার্টে দর্শকদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কগুলি প্রসঙ্গে খোলামেলা জবাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলে জানতে চেয়েছেন পাকিস্তানের সঙ্গে যদি খেলা হতে পারে, তাহলে তাঁর সর্দারজি ৩ ছবি দেশে নিষিদ্ধ কেন?
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে তাঁর সিনেমা ‘সর্দারজি ৩’ ভারতে মুক্তি পায়নি। দিলজিৎ বলেছিলেন যে সন্ত্রাসী হামলার আগেই তাঁর ছবি সর্দারজি ৩ – এর শুটিং হয়েছিল। তিনি আরও বলেন যে তাঁর দেওয়ার মতো অনেক উত্তর রয়েছে, তবে তিনি চুপ করে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। দাবি করেছেন, প্রকৃত পাঞ্জাবি এবং শিখ সম্প্রদায় কখনই তাঁদের জাতি ও দেশের বিরুদ্ধে যেতে পারেন না।
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন দিলজিৎ। গত ২২ এপ্রিল মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল, সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় পর্যটক সহ ২৬ জন নিহত হন। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলজিৎ বলেন, ‘ সেই সময় এবং এখনও সর্বদাই প্রার্থনা করেছি যে সন্ত্রাসবাদীদের যেন কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়। পার্থক্য হল, আমার সিনেমাটি আক্রমণের আগে শুটিং করা হয়েছিল কিন্তু এশিয়া কাপের ক্রিকেট ম্যাচটি হামলার পরেও খেলা হয়েছে।’
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বেশ কয়েকটি ক্লিপও প্রকাশিত হয়েছে দিলজিৎ দোসাঞ্জের। দেখা যাচ্ছে জাতীয় পতাকাকে অভিবাদন জানাচ্ছেন তিনি। সেখানে লিখেছেন, ‘এটা আমার দেশের পতাকা। সবসময় সম্মান করি।’
দেশের সংবাদমাধ্যমের নানান সমালোচনাও যে তাঁকে রক্তাক্ত করেছে সেটাও তুলে ধরেছেন দিলজিৎ। বলেছেন, ‘ন্যাশনাল মিডিয়া আমাকে দেশদ্রোহী হিসাবে তুলে ধরার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পাঞ্জাবি এবং শিখ সম্প্রদায় কখনোই দেশের বিরুদ্ধে যেতে পারে না।’
গত কয়েক মাস ধরে কেন নীরব ছিলেন তা জানাতে গিয়ে দিলজিৎ বলেন, ‘আমার কাছে অনেক উত্তর আছে, কিন্তু আমি চুপ করেই আছি। সবকিছু নিজের ভেতরে রেখেছি। এটা আমি জীবন থেকে শিখেছি। তাই কিছু বলিনি। অনেক কিছু বলার আছে। কিন্তু আমি এসব চাই না।’
প্রসঙ্গত, তাঁর সর্দারজি ৩ ছবিতে পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির অভিনয় করার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন দিলজিৎ। অমর হুন্ডাল পরিচালিত সর্দার জি ৩- ২৭ জুন বিদেশে মুক্তি পেয়েছিল। ছবি মুক্তির আগে যেভাবে এই ছবিকে ঘিরে দেশে নানা স্তরে বিতর্ক ও জল্পনা দানা বাঁধে, তাতে বারবার নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন দিলজিৎ। আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই ছবি দেশে মুক্তি না পেলে ঠিক কতটা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে সেই নিয়েও।
কিন্তু কোনও কিছুতেই লাভ হয়নি। পহেলগাঁও হামলার প্রেক্ষিতে তখন স্পর্শকাতর সময়। তাই শত্রুপক্ষের সঙ্গে কোনওরকম আপসেই রাজি নন দেশের মানুষ। বিনোদন দুনিয়া থেকে শুরু করে দেশের সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের অংশগ্রহণ খুব স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে নারাজ ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা দেশবাসী।
পাক অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে মুখ খুলেছেন দিলজিৎ। বলেছেন, “খুব ভালো অভিনেতা ও খুব পেশাদার। আমি সত্যিই তাঁর কাজ এবং তাঁর গোপনীয়তাকে সম্মান করি।”
