দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে এসে ফের সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে বাংলা এবং বাঙালির আবেগ উস্কে বিজেপির শীর্ষ নেতা বলেন, ‘’এই ন’দিন(নবরাত্রি) বাংলার সমস্ত নাগরিক শক্তি আরাধনায় নিজেদের সমর্পিত করেন। দুর্গাপুজোর এই শুভ সময় থেকে বাংলার উন্নতি ও প্রগতি ত্বরান্বিত হবে।” নরেন্দ্র মোদির ডেপুটির আহ্বান, এমন এক বাংলা গড়ে তুলতে হবে, যা প্রধানমন্ত্রীর বিকশিত ভারতের স্বপ্নকে সার্থক করবে।
বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষের পুজো বলে পরিচিত সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, “আমি দুর্গা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, আগামী নির্বাচনের পর বাংলায় এমন সরকার তৈরি হবে, যা সোনার বাংলা নির্মাণ করবে৷” তাঁর আশা, মা দুর্গার আশীর্বাদে বাংলায় এমন এক সরকার তৈরি হবে যারা সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করবে৷ তৈরি হবে কবিগুরুর কল্পনার বাংলা৷ সেই বাংলা হবে সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, শান্ত, সুজলা, সুফলা।
সল্টলেকের ইজেডসিসিতেও দুর্গাপুজো উদ্বোধন করেছেন অমিত শাহ। দলের রাজ্য শাখার সাংস্কৃতিক ইউনিটের পুজোর থেকেও পদ্ম কাউন্সিলর সজল ঘোষের সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোয় বাঙালি আবেগে শান দিয়েছেন বিজেপির পোড় খাওয়া বর্ষীয়ান নেতা। পুজো উদ্বোধনের ভাষণে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি৷ বলেন, “আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন৷ তাঁর অবদান কেউ ভুলতে পারবে না৷ বাংলাভাষা থেকে শুরু করে বাংলা ব্যাকরণ আর মহিলাদের শিক্ষায় তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল ৷ শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবলমাত্র বাংলা নয়, বরং সারা দেশ যখন পরাধীন ছিল তখন শিক্ষার জন্য যা করেছিলেন তা কেউ ভুলতে পারবেন না।”
পুজোর উদ্বোধন পর্বে কলকাতার প্লাবিত হওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে শাহের ভাষণে। বলেন, ‘’দুর্গাপুজোর আগে এখানে ভারী বর্ষণ হয়েছে। তার জেরে ১০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে। আমি তাঁদের সকলের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আমি তাঁদেরও শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে চাই।” স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন শাহ ৷
বিদ্যাসাগর ইস্যুতে শাহকে নিশানা করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়, অমিত শাহের রোড-শো ঘিরে অশান্তি ছড়িয়েছিল। রোড শো বিদ্যাসাগর কলেজ অতিক্রম করার সময় অশান্তির সৃষ্টি হয়৷ বিদ্যাসাগরের মূর্তিও ভাঙা পড়ে৷ এই ঘটনায় দায় বিজেপির উপর চাপায় তৃণমূল৷ সেই ঘটনা তুলে ধরে এদিন ফের শাহকে আক্রমণ করেছে বাংলার শাসক দল ৷ শুধু তাই নয়, এদিনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যাসাগর কলেজেও যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেখানে তিনি উনিশের প্রসঙ্গ টেনে শাহকে বিঁধেছেন৷
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু শাহের সোনার বাংলা গড়ার ডাককে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “২০২০ সালের দুর্গাপুজোর সময় সোনার বাংলার কথা তুলেছিলেন। কিন্তু মা দুর্গা তারা কথা শোনেননি। তাই ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেনি বিজেপি। এবার তিনি ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এলেন। আবার, মা দুর্গার সামনে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন। তবে তারা (বিজেপি) ক্ষমতায় কিন্তু আসতে পারবে না। আমি তাঁকে ২০৩০ সালের দুর্গাপুজোর সময় আবার বাংলায় আসার এবং সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখার জন্য আগাম অনুরোধ করছি।”
