বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত, আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চললেও ইদানীং অনেকাংশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ছে পড়শি দেশ পাকিস্তান। বারবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে আমেরিকা উড়ে যাচ্ছেন পাক শীর্ষ নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
সংবাদ সংস্থার খবর, এই সাক্ষাতের জন্য শরিফ ও মুনিরকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, শাহবাজ শরিফ বিকেল ৪টে ৫২ মিনিটে হোয়াইট হাউসে পৌঁছন। ট্রাম্প তখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং একাধিক নির্দেশে সই করছিলেন। ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শরিফ ও মুনিরকে। বৈঠক শেষে পাক প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে দেখা যায়।
কিন্তু কেন এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে তা নিয়ে জল্পনা চলছেই। আমেরিকা ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে দেখেছে। মাঝে ওসামা পর্ব বাদ দিলে তা ফের গুরুত্ব পেয়েছে ট্রাম্পের সময়ে। গত ৮ সেপ্টেম্বর শরিফের বাসভবনে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খনিজ ও রেয়ার আর্থ উপাদান সরবরাহ সহ দুটি মউ সই করেছে।
গত কয়েক মাসে ওয়াশিংটন মুনিরকে তিনবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ট্রাম্পকে দেওয়াটা সম্পর্কের এই হঠাৎ উষ্ণতার আরেকটি কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছে। ট্রাম্প একাধিকবার তাঁর মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত থেমেছে এমন দাবি করলেও ভারত বারবার তা অস্বীকার করেছে। তবে পাকিস্তান পরে এই দাবি মেনে নিয়ে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে মনোনীত করেছে।
