
দিল্লির লালকেল্লার কাছে সোমবারের ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের পেছনে উঠে এলো কাশ্মীর-যোগ। তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরিত সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি ছিল পুলওয়ামার বাসিন্দা চিকিৎসক উমর উন নাবির নামে, যিনি একটি সক্রিয় জঙ্গি মডিউলের সদস্য। এই মডিউলের সঙ্গে ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া প্রায় ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সরাসরি সংযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল।
পুলিশ সূত্রে খবর, উমর উন নাবি ছিলেন দুই কাশ্মীরি চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এই দু’জনের গ্রেপ্তারের পরই ফরিদাবাদের ধৌজ ও ফতেহপুর টাগা গ্রামে বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পর উমরই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে।
সোমবার বিকেল চারটার দিকে গাড়িটি সুনেহরি মসজিদের পার্কিংয়ে ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লোয়ার সুবাষ মার্গে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে পৌঁছনোর আগেই গাড়িটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, ধ্বংস হয় আশেপাশের কয়েকটি যানবাহন। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩ জনের, আহত ২১ জন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ইউএপিএ, ভারতীয় নয়া দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িতে থাকা বিস্ফোরক পরিবহনের সময়ই তা দুর্ঘটনাবশত ফেটে যায়।
ঘটনার পর থেকে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, হরিয়ানা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে গোটা জঙ্গি নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত নিরাপত্তার স্বার্থে লালকেল্লা তিন দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
