
ভোটার তালিকা নিবিড় সমীক্ষা বা SIR নিয়ে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল চাপ ও আতঙ্ক। জন্ম শংসাপত্র ছাড়া ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন সম্ভব নয় এই নিয়ম কার্যকর হতেই সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন পড়ছে কলকাতা পুরসভার সামনে। গত কয়েকদিন ধরে পুরসভার মূল গেট থেকে রক্সি সিনেমা হল পর্যন্ত সাপের মতো লাইন দেখা যাচ্ছে। হাজারেরও বেশি মানুষ, কেউ অফিসের ছুটি নিয়ে, কেউ বা ভিনরাজ্য থেকে ছুটে আসছেন কেবল জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ করতে।
এই বিপুল ভিড় ও চাপ সামলাতে নাজেহাল পুরসভার কর্মীরা। পুরস্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দিনে গড়ে ১৫০টি জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে, তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিমাণ দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরসভার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কলকাতার বাইরেও বহু জেলা ও ভিনরাজ্য থেকে আবেদন জমা পড়ছে। কেউ কলকাতার কোনও নার্সিংহোমে জন্মেছেন, কিন্তু বর্তমানে অন্য রাজ্যে কাজ করেন তাঁরাও অফিস ছুটি নিয়ে এসেছেন সার্টিফিকেট নিতে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুরসভাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আর হাতে লেখা সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না; সব সার্টিফিকেটই এখন কম্পিউটার প্রিন্টেড, জলছবিযুক্ত ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বাক্ষরিত হবে। করোনা-পর্ব থেকেই পুরসভায় চ্যাটবটের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করা হলেও, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে কাজের গতি কমে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে পুরসভা প্রশাসন সার্টিফিকেট ইস্যুর গতি বাড়াতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ ও সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। নাগরিকদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ কাউন্টার খোলারও চিন্তাভাবনা চলছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নাগরিকদের উদ্বেগ প্রশমনে পুরসভা চাইছে দ্রুত ও নির্ভুল পরিষেবা দিতে।
