
২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণ বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের জীবন আজ এক গভীর অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে। প্রায় তিন বছর কেটে গেলেও তাদের হাতে এখনো নিয়োগপত্র এসে পৌঁছায়নি। প্রতিদিন নতুন আশার আলো জ্বলে, আবার নিভে যায় প্রশাসনিক উদাসীনতায়। এই দীর্ঘ অপেক্ষা, প্রতিশ্রুতির ভাঙা সুর আর অনিশ্চয়তার বোঝা নিয়ে তারা আজ দাঁড়িয়ে আছে এক সংকটের মোড়ে।
রাজ্য সরকার সম্প্রতি ১৩,৪২১টি শূন্যপদ ঘোষণা করলেও, সেটি বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য কার্যত অপ্রতুল। বাস্তবে অনেকেই মনে করছেন, এই সংখ্যা প্রায় উপহাসের মতো, যেখানে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী বছরের পর বছর ধরে চাকরির আশায় অপেক্ষা করছেন। আবেদনপত্র, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা সব কিছু পেরিয়ে আসার পরও তাদের জন্য দরজা খুলছে না। যেন রাষ্ট্রের চোখে তাদের যোগ্যতা নয়, প্রতিবন্ধকতাই তাদের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সহরজান লস্করের মতো একাধিক প্রার্থী আজ জীবনের তীব্র সংকটে। সংসারের ভার, সন্তানের ভবিষ্যৎ, আর সমাজের অবহেলা সব মিলিয়ে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কেউ কেউ ভোর থেকে রাত পর্যন্ত টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাচ্ছেন, কেউ আবার পরিবারের কাছে পরনির্ভর হয়ে বেঁচে আছেন। সরকারের প্রতিশ্রুতি বারবার শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাদের দাবি, অন্তত ৫০,০০০ শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।
অন্যদিকে, প্রীতিরঞ্জন দেবনাথসহ একাধিক প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, প্রতিবন্ধী কোটার নিয়ম এখন প্রায় নামমাত্র। বিভিন্ন ক্যাটাগরির নামে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে সংরক্ষণের অধিকার, ফলে অনেকেই ‘সাধারণ প্রার্থী’ হিসেবে বাদ পড়ছেন। এর ফলে যোগ্য হয়েও সুযোগ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, যাদের জীবনে এই চাকরিই একমাত্র আশার আলো।
প্রশাসনিক স্তরে নীরবতা আর বিলম্ব যেন এক নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ রাজ্য সরকার বারবার বলে এসেছে, তারা বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের পাশে থাকবে। কিন্তু ময়দানে ছবিটা একেবারেই উল্টো। মানবিকতার জায়গায় এসেছে আমলাতান্ত্রিক উদাসীনতা, আর নীতির জায়গা নিয়েছে সংখ্যার হিসেব।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে সক্ষম টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একটাই আর্তি তাদের প্রাপ্য সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হোক, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন। রাজ্য সরকারের কাছে তাদের আবেদন স্পষ্ট সহানুভূতি নয়, ন্যায় চাই। কারণ দীর্ঘদিনের এই নীরব যন্ত্রণা এখন ধীরে ধীরে হতাশার প্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে এক শ্রেণির মানুষকে, যাদের প্রতিটি স্বপ্নই রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার পরীক্ষায় পড়ে আছে।
