
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রায় চার বছরের দীর্ঘ সংঘাত থামাতে নতুনভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৮ দফার শান্তি-প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসতেই তা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। রাশিয়া প্রস্তাবের প্রতি আগ্রহ দেখালেও ইউক্রেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই শর্তে আলোচনায় বসা সম্ভব নয়।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক ‘ইতিবাচক পরিবেশে’ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “রাশিয়ার সাড়া আশাব্যঞ্জক। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখনও প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে খতিয়ে দেখেননি।”
অন্যদিকে, ইউক্রেন সরকার এই খসড়া প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে জানিয়েছে। কারণ, খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না, রাশিয়াকে পুনরায় জি৮-এ ফেরানোর পথ খুলবে এবং ইউক্রেনের কয়েকটি বিতর্কিত ভূখণ্ডে ছাড় দিতে হবে। কিয়েভের দাবি, এই শর্তগুলি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ স্বীকার করেছেন, কিছু অগ্রগতি হলেও আলোচনার সামনে এখনও বহু কাজ বাকি। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইউক্রেনের বৈঠক কিছুটা আশার ইঙ্গিত দিলেও কোনও স্পষ্ট ফল আসেনি।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে রাশিয়া আলোচনায় এগোলেও ইউক্রেনের আপত্তিতে শান্তি-চুক্তির পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, উভয় পক্ষই নরমপথে না আসা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। যুদ্ধের অবসান ঘিরে অনিশ্চয়তা তাই আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
