
কেন্দ্র সরকারের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান পরিকল্পনা ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (VB G RAM G)’ বিল সংসদে পেশ হয়েছে। এই বিল পাশ হলে ২০০৫ সালে চালু হওয়া MGNREGA বা একশ দিনের কাজের আইনি অধিকার বাতিল হবে। সরকারের যুক্তি, গ্রামীণ ভারতের বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে। ডিজিটাল পরিকাঠামো, ব্যাংকিং পরিষেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে মিলিয়ে কর্মসংস্থানের কাঠামোও বদলানো জরুরি।
নতুন বিলে বছরে কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ করা হয়েছে। তবে চাষের মরশুমে সর্বাধিক ৬০ দিন কাজ বন্ধ রাখা যাবে। এছাড়াও, কেন্দ্র ও রাজ্যের খরচ ভাগাভাগি করা হবে; MGNREGA-তে যা পুরোপুরি কেন্দ্র বহন করত, নতুন বিলে অধিকাংশ রাজ্যকে খরচের প্রায় ৪০ শতাংশ বহন করতে হবে। মজুরি দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, এবং মহিলা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও গুরুতর অসুস্থদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে।
কাজের অগ্রাধিকার চারটি ক্ষেত্রে জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো নির্মাণ, জীবিকা-সংক্রান্ত প্রকল্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার প্রকল্প। সরকার দাবি করছে, এতে স্থায়ী সম্পদ তৈরি হবে এবং গ্রামীণ আয় বাড়বে।
তবে বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, MGNREGA ছিল চাহিদানির্ভর ও অধিকারভিত্তিক, আর নতুন বিল বাজেট-নির্ভর। বরাদ্দ শেষ হলে গ্রামীণ মানুষ কাজ পাবেন না। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, এটি মহাত্মা গান্ধীর গ্রাম স্বরাজ ভাবনার উপর আঘাত, কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে এবং গরিব মানুষের অধিকার দুর্বল করবে।
তামিলনাড়ু ও কেরলসহ কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই এই বিলের বিরোধিতা করেছে। নতুন ‘জিরামজি’ বিল কার্যকর হলে, গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ভবিষ্যত ও গরিব মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হবে।
