
রাজ্যে চলা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো হিয়ারিং বা শুনানি। এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার পরবর্তী এই পর্যায়ে নাগরিকদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, আর তারই শিকার হলেন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক জয় গোস্বামী।
জয় গোস্বামী, তাঁর স্ত্রী কাবেরী গোস্বামী এবং কন্যা দেবত্রী তিনজনেই নিয়মমতো ফর্ম জমা দিয়েছেন। খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি ছিল। কিন্তু আচমকাই আসা ফোনে জানা যায়, ২ জানুয়ারি জয় ও দেবত্রীকে শুনানিতে হাজির হতে হবে। এই খবর কেবল পরিবারকেই নয়, সাধারণ নাগরিককেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে অসুস্থ মানুষের জন্য কি এই প্রক্রিয়া যথাযথ?
জয় গোস্বামী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত নভেম্বরের শারীরিক জটিলতার কারণে তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছেন। সংক্রমণের আশঙ্কায় তাঁকে বাইরে নেওয়া কঠিন। কাবেরী গোস্বামী জানিয়েছেন, এমন শারীরিক অবস্থায় বাইরের জায়গায় নেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিএলও-কে বিষয়টি জানিয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জয় গোস্বামীর পরিবার মনে করছেন, দীর্ঘদিন এই এলাকায় ভোট দিয়েছেন, নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করেছেন, তারপরও হঠাৎ শুনানিতে হাজিরা ডাকা হতবাক করার মতো। দেবত্রীর প্রশ্ন, “এত বছর এখানে থাকা, এত কাজ করার পরেও আবার প্রমাণপত্র দিতে হবে?” এটি সাধারণ নাগরিকের অসুবিধারও একটি নিদর্শন।
এখন পরিবারের সামনে শুধু অপেক্ষার সময়। হিয়ারিংয়ে হাজির হতে না পারার বিষয়টি জানানো হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপ এখনও অজানা। নাগরিক অধিকার সুরক্ষার কথা বলা হলেও এই প্রক্রিয়ায় অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের জন্য মানসিক চাপ তৈরি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে এসআইআর কি সত্যিই সকলের জন্য সমানভাবে সুবিধাজনক?
