
স্পেনের রাজতন্ত্রে শুরু হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। প্রায় দেড়শো বছর পর আবার এক নারীর হাতে দেশের শাসনভার যেতে চলেছে। রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানী লেটিজিয়ার জ্যেষ্ঠ কন্যা, ২০ বছরের রাজকুমারী লিওনরই হচ্ছেন স্পেনের ভবিষ্যৎ রানী। শেষবার স্পেনে একজন নারী শাসন করেছিলেন উনিশ শতকে রানী ইসাবেলা। সেই দীর্ঘ ব্যবধান পেরিয়ে আবার ইতিহাসের ছক ভাঙতে চলেছে লিওনরের অভিষেক।
২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া লিওনর বর্তমানে স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। ছোটবেলা থেকেই রাজদায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে তাঁকে। রাজপরিবার সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক স্পেনের প্রতীক হিসেবেই লিওনরকে গড়ে তোলা হচ্ছে শিক্ষা, শৃঙ্খলা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির মেলবন্ধনে।
শিক্ষাগত দিক থেকে লিওনর অত্যন্ত কৃতী। ওয়েলসের ইউডব্লিউসি আটলান্টিক কলেজ থেকে আন্তর্জাতিক ব্যাকালোরিয়েট ডিপ্লোমা অর্জনের পর তিনি উচ্চশিক্ষা শুরু করেন। পাশাপাশি, স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী ভবিষ্যৎ কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে তাঁকে তিন বাহিনীর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। ২০২৩ সালে জারাগোজায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁর সামরিক যাত্রা শুরু হয়। পরে নৌবাহিনীতে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ জাহাজ জুয়ান সেবাস্তিয়ান দে এলকানো-তে ১৪০ দিনের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মার্সিয়ার সান জাভিয়ের এয়ার অ্যান্ড স্পেস একাডেমিতে।
ভাষাজ্ঞানেও অনন্য লিওনর। স্প্যানিশের পাশাপাশি কাতালান, ইংরেজি, ফরাসি, আরবি ও ম্যান্ডারিন ভাষায় তিনি সাবলীল। স্পেনের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি এখন শুধু ভবিষ্যৎ রানী নন, বরং পরিবর্তন ও আধুনিকতার প্রতীক। দেড়শো বছরের ইতিহাস ভেঙে লিওনরের হাত ধরেই নতুন অধ্যায়ের পথে স্পেন।
