
২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস এ বছর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, এই বছরই জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি পালন করা হচ্ছে। সেই উপলক্ষে ২৬ জানুয়ারি নয়াদিল্লির কর্তব্য পথে আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে ইতিহাস, দেশপ্রেম, সামরিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ তুলে ধরা হবে।
শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং জানান, এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভাবনাতেই ‘বন্দে মাতরম’-এর দেড়শো বছরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেন। তাঁদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্বকেও আরও একবার তুলে ধরবে।
প্যারেডের অন্যতম আকর্ষণ হবে ‘বন্দে মাতরম’-কে ঘিরে বিশেষ ভিজ্যুয়াল শ্রদ্ধাঞ্জলি। শিল্পী তেজেন্দ্র কুমার মিত্রের ১৯২৩ সালে আঁকা চিত্রকর্মে বন্দে মাতরমের বিভিন্ন পঙ্ক্তিকে ফুটিয়ে তোলা হবে, যা কর্তব্য পথ জুড়ে প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি ১৯ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর ব্যান্ড পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই অনুষ্ঠানগুলির একটি হবে পশ্চিমবঙ্গের বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িতে।
প্যারেডের থিম হিসেবে রাখা হয়েছে ‘স্বাধীনতার মন্ত্র – বন্দে মাতরম’ এবং ‘সমৃদ্ধির মন্ত্র – আত্মনির্ভর ভারত’। সামরিক প্রদর্শনীতে টি-৯০ ট্যাঙ্ক, অর্জুন এমবিটি, ব্রহ্মোস ও আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক ড্রোন ও চালকবিহীন যান দেখানো হবে। ফ্লাইপাস্টে অংশ নেবে রাফাল, সু-৩০ ও অ্যাপাচির মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।
২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস শুধু এক আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক গর্বিত প্রদর্শন হতে চলেছে।
