
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কড়া নির্দেশ জারি করল নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না হলেও ইতিমধ্যেই বাহিনীর ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুধুমাত্র উপস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা যাবে না; তাদের সরাসরি মাঠে নেমে দায়িত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অনেক ক্ষেত্রে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বাহিনী যেন বাস্তবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বাহিনীকে সরাসরি নির্দিষ্ট এলাকায় পাঠানো হবে এবং তাদের চলাচল ও দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর যানবাহনে জিপিএস বসানো থাকবে, যাতে বাহিনীর অবস্থান এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি কিউআরটি ভ্যানগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে, যার মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সাহায্যে বাহিনীর কার্যকলাপ এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশন সরাসরি তথ্য পাবে।
সূত্রের খবর, মার্চ মাসেই দুই দফায় রাজ্যে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। প্রথম দফায় ১ মার্চ ২৪০ কোম্পানি এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চ বাকি ২৪০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে আসবে। এই বাহিনীর মধ্যে থাকবে সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র বিভিন্ন কোম্পানি।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলাকে স্পর্শকাতর এবং অতিস্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলিতে হিংসার ইতিহাস এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূম জেলাকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটের আগে এলাকায় ডমিনেশন, টহলদারি এবং ভোটারদের নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অতীতের তুলনায় এবারের নির্বাচনে বাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, কমিশনের এই কড়া নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় তার দিকেই।
