
আরব বিশ্বের কূটনৈতিক মানচিত্রে অভূতপূর্ব অস্থিরতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। হামলার পরই তেহরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু খামেনেই নয়, এই হামলায় তার মেয়ে, জামাই এবং তাদের সন্তানদেরও মৃত্যু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হত্যার দাবি করলেও ইরান প্রথমে তা অস্বীকার করেছিল। তবে পরে তেহরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমই এই মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।
৮৬ বছর বয়সি খামেনেই ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেশ পরিচালনা করছিলেন। শিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রে তিনি সব শাখা, সামরিক বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার উপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখতেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ সামলালেও, বড় কোনও নীতি তার অনুমোদন ছাড়া কার্যকর হতো না। পশ্চিমের কাছে তিনি বরাবরই কঠোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত, দেশের ভিতরে বিরোধী কণ্ঠ দমন ও আঞ্চলিক ‘প্রক্সি’ শক্তিকে সমর্থন করে ইরানের প্রভাব বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তার শাসনকাল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অধ্যায় ছিল। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দোলাচল চলছিল। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চলা দেশব্যাপী আন্দোলনে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। জুনে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ১২ দিনের বিমান হামলায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও রেভলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার নিহত হন।
খামেনেইয়ের মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার সমীকরণকে বদলে দিতে পারে। ইরানের ধর্মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর তার দখল এত দৃঢ় ছিল যে, কোনো সংগঠিত শক্তি তার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। তার অনমনীয় কৌশলগত অবস্থানই হয়তো শেষ পর্যন্ত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
৩৬ বছরের নেতৃত্বের পর খামেনেইয়ের মৃত্যুর মাধ্যমে ইরানের রাজনীতিতে এক যুগের সমাপ্তি। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী রাজনৈতিক খেলা নিয়ে। এ ঘটনার প্রভাব শুধু ইরান নয়, সমগ্র অঞ্চলের কূটনৈতিক মানচিত্রকেও সরাসরি আঘাত করেছে।
এই নতুন অধ্যায় নিয়ে বিশ্ব নেতৃত্ব পর্যবেক্ষণ করছে, আর প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং শক্তি সমীকরণে।
