
ঢাকা: বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার শাস্তি আরও কঠোর করার দাবি উঠল জাতীয় সংসদে। দেশের প্রধান বিরোধী জোটের একটি সহযোগী দলের সংসদ সদস্য সাইদউদ্দিন আহমদ হানজালা সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালুর প্রস্তাব দেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় অবমাননা বিশেষ করে ইসলামের নবী হজরত মহম্মদ সম্পর্কে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা ইসলামের শেষ নবীকে স্বীকার করেন না, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনা বারবার ঘটছে এবং এ ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে দমন না করলে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। তাঁর মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি মুসলিম হন তবে তাকে ধর্মীয় পরিচয় থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে আলাদা কোনো ধর্ম অবমাননা আইন নেই। তবে প্রচলিত দণ্ডবিধি অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সংসদে এই প্রস্তাব ওঠার পরই রাজনৈতিক ও আইন বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, এ ধরনের কঠোর শাস্তির দাবি মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে, কিছু মহল মনে করছে, ধর্মীয় সংবেদনশীলতার কারণে এই ধরনের আইনগত কড়াকড়ির দাবি বাড়ছে।
এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকার বা আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি আগামী দিনে দেশটির সংসদীয় আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত শাস্তি ঘিরে এই নতুন প্রস্তাব বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে জনমতও বিভক্ত হয়ে পড়ছে।
