
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় গত ১৯ মার্চ ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। এই ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন হাড়োয়া থানার হাড়োয়া বিধানসভার ১৮৮ নম্বর বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি মসিউর কাজী। তার দেহ ঝলসানো অবস্থায় হাড়োয়ার ঝুঝুরগাছা গ্রামের পাশে উদ্ধার করা হয়েছিল।
ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অ্যাম্বুলেন্স চালক সুরাজ মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ করল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তকারীরা বিস্ফোরণের ক্রম ও বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। তারা চেষ্টা করছেন পুরো ঘটনার চেইন বোঝার, যাতে স্পষ্ট করা যায় এটি কি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ, নাকি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অংশ ছিল।
তদন্তের পরিধি সম্প্রসারণের জন্য এনআইএ উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার ঝুঝুরগাছা এলাকায় পৌঁছেছে। তদন্তকারীরা সেখান থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যেখানে মসিউর কাজীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। আগের দিন স্করপিও গাড়ি আটক করে তার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এনআইএ-এর পাঁচ সদস্যের দল সুরাজ মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্গঠন করে বিস্ফোরণের ধরন এবং ঘটনার ক্রম বিশ্লেষণ করে। এই পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে তারা চেষ্টা করছেন নিশ্চিত হওয়ার যে, মসিউর কাজী কি বোমা বাঁধার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হন, নাকি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে দেহ স্থানান্তর করা হয়েছে।
এনআইএ-এর তদন্ত আরও জোরদার হওয়ার কারণে এলাকার রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষও উৎসুক দৃষ্টি রাখছেন। এই বিস্ফোরণ কাণ্ডের সঙ্গে মসিউর কাজীর মৃত্যু সংযোগ স্থাপন এবং সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রমূলক দিকগুলি স্পষ্ট করার লক্ষ্য নিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে।
এখন এনআইএ-এর সামনে মূল চ্যালেঞ্জ, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং সমস্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের খুঁজে বের করা। ভাঙ্গড় এবং হাড়োয়া এলাকার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সংস্থাটি ধাপে ধাপে তদন্ত চালাচ্ছে।
