
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী Suvendu Adhikari-র অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন এক তৃণমূল কর্মী। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে শাসকদল।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে মানসা বাজার এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে অতর্কিতে হামলার শিকার হন অমর কর নামে এক কর্মী। অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা মিছিলে যোগ না দেওয়ায় তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। কার্তিক দলুই, রবিন মিদ্যা ও রামকৃষ্ণ মাইতি-সহ একদল বিজেপি কর্মী লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় বলে দাবি তৃণমূলের। এমনকি আক্রান্তের কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগও উঠেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অমর কর। তাঁর মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, শুধু আক্রান্তই নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার পরই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস চার দফা দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রধান দাবি, নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে অবিলম্বে শুভেন্দু অধিকারীকে শো-কজ নোটিশ দেওয়া হোক। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তৃণমূল আরও দাবি করেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভোটের আগে এলাকায় ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্ব এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে, যা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিপন্থী।
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিজেপির তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই নন্দীগ্রাম-সহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।
