
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আবহে সিউড়ির জনসভায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর উপস্থিতিতেই দলের দুই নেতার অস্বস্তিকর মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়, যা পরে ভাইরাল হয়ে যায়।
সোমবার সিউড়িতে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন Anubrata Mondal এবং Kajal Sheikh। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী কাজল শেখ ও বিকাশ রায়চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলার সময় অনুব্রত মণ্ডলকে কাছে ডাকেন। কিন্তু সেই সময়ই অনুব্রত হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ করে মঞ্চের অন্যদিকে সরে যান। তাঁর এই আচরণ থেকেই জল্পনা শুরু হয় দলের অন্দরেই কি অসন্তোষ চরমে?
রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূমে দীর্ঘদিন ধরে অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব ছিল একচ্ছত্র। তবে গরু পাচার মামলায় তাঁর গ্রেফতারের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। সেই সময় জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে কাজল শেখের উত্থান ঘটে এবং ধীরে ধীরে তিনি জেলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ফলে দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, যা এখন প্রকাশ্যে আসছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
সূত্রের দাবি, সিউড়ির সভায় মুখ্যমন্ত্রী মূলত এই দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করছিলেন। ভোটের আগে সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে কাজল ও অনুব্রতকে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়ার বার্তা দেন তিনি। কিন্তু সেই প্রস্তাবেই সম্ভবত আপত্তি ছিল অনুব্রতের, এবং তারই প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর আচরণে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৃণমূলের পক্ষে অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সংগঠনের ভিত মজবুত রাখতে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। এই পরিস্থিতিতে কেষ্ট-কাজল বিরোধ ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সিউড়ির এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে শুধু বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই নয়, দলীয় অভ্যন্তরেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এই দ্বন্দ্ব কত দ্রুত মেটে এবং তা ভোটের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।
