
ইসলামাবাদ: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব ও তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে তীব্র আর্থিক চাপে পড়ে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে পাকিস্তান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে নেওয়া ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ শোধ করতে গিয়ে দেশটি এখন “সব ধরনের বিকল্প” খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলা ঋণ পুনর্নবীকরণের প্রথা এবার ভেঙে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ফলে পাকিস্তানের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্বিপাক্ষিক ঋণ, বাণিজ্যিক ঋণ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সব দিকেই নজর দিচ্ছে ইসলামাবাদ।
অর্থমন্ত্রীর কথায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বর্তমানে প্রায় ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যা মাত্র তিন মাসের আমদানি খরচ মেটাতে সক্ষম। এর ফলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পরে পশ্চিম এশিয়ায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে এবং তার ফল ভুগছে পাকিস্তান।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর কাছ থেকে চলতি ৭০০ কোটি ডলারের সহায়তা কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি দ্রুত পাওয়ার আশায় রয়েছে ইসলামাবাদ। ওই কিস্তি থেকে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার হাতে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আপাতত এই কর্মসূচি বাড়ানোর বা ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
একই সঙ্গে পাকিস্তান আবার আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে ফেরার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। চার বছর পর ইউরোবন্ড, ইসলামি সুকুক এবং ডলার নির্ভর বিশেষ বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো চীনা মুদ্রায় ‘পান্ডা বন্ড’ ছাড়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যার প্রাথমিক পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ডলার।
একদিকে বৈদেশিক ঋণের চাপ, অন্যদিকে জ্বালানির বাড়তি খরচ, এই দুইয়ের চাপে পাকিস্তানের অর্থনীতি কঠিন সময়ের মুখোমুখি। তবে সরকার আশাবাদী, বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ জোগাড় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
