
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আবহে ফের নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সূত্রের খবর, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকায় কমিশন বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি চেক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বেআইনি নগদ অর্থ বা অন্য কোনও সামগ্রী পরিবহণ রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে এই নজরদারি চলছে এবং এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, এটি নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলকে চাপে রাখতেই কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র তৃণমূল নেতাদের গাড়িকেই টার্গেট করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতেই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই তৃণমূল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সব কিছু নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর, কারণ ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি তল্লাশির ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। নির্বাচন যত এগোবে, এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
