
পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদীর প্রত্যর্পণ মামলা এবার লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেল। ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অবস্থিত ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ECHR) নীরব মোদীকে ‘অ্যানোনিমিটি’ বা পরিচয় গোপন রাখার বিশেষ অধিকার এবং তাঁর মামলাটিকে ‘গোপনীয়’ ঘোষণা করার আবেদন মঞ্জুর করেছে। এর ফলে এখন থেকে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য সাধারণের জন্য প্রকাশ করবে না আদালত।
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের প্রেস অফিস জানিয়েছে, “যখন কোনও আবেদনকারীকে গোপনীয়তার অধিকার দেওয়া হয়, তখন সেই মামলা সংক্রান্ত কোনও তথ্য আদালত প্রকাশ্যে প্রদান করতে পারে না।” সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই মামলার শুনানি হতে পারে। সেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর (CBI) বক্তব্য শোনার পর আদালত চূড়ান্ত রায় দেবে।
ব্রিটেন থেকে নীরব মোদীকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পথে এটিই শেষ আইনি লড়াই। যদি ইসিএইচআর (ECHR) নীরব মোদীর আবেদন খারিজ করে দেয়, তবে তাঁর ভারতে প্রত্যর্পণের পথে আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না। ব্রিটেন ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ হওয়ার কারণেই নীরব লন্ডনের আদালত থেকে ধাক্কা খাওয়ার পর এই আদালতের দ্বারস্থ হতে পেরেছেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ব্রিটেনের হাই কোর্ট অফ জাস্টিস নিরবের মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। ভারতের দেওয়া কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা ‘অ্যাসুরেন্স’ পর্যালোচনার পর আদালত জানিয়েছিল, ভারতীয় জেলে নিরবের ওপর অত্যাচারের কোনও ঝুঁকি নেই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত সরকারের দেওয়া বিস্তারিত এবং নির্ভরযোগ্য নথিপত্র বিচার করেই ব্রিটিশ আদালত নিরবের প্রত্যর্পণের নির্দেশে সায় দিয়েছিল।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত এই ৫৫ বছর বয়সী হীরা ব্যবসায়ী। সিবিআই-এর দাবি অনুযায়ী, জালিয়াতির মোট অঙ্কের মধ্যে প্রায় ৬,৪৯৮.২০ কোটি টাকা একাই আত্মসাৎ করেছেন নীরব। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ লন্ডনে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি দক্ষিণ লণ্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অন্যদিকে, এই মামলার অপর অভিযুক্ত তাঁর মামা মেহুল চোকসি বর্তমানে বেলজিয়ামের একটি কারাগারে বন্দি।
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে মামলার এই গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ ভারতের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করলেও, সিবিআই ও ভারত সরকার এই আইনি লড়াইয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। যদি এই আবেদনটি নাকচ হয়, তবে অতি শীঘ্রই নীরবকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।
