
পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন শুরুর আনন্দ, আর সেই আনন্দের মাঝেই এবার বাংলার রাজনীতিতে দেখা গেল এক অভিনব দৃশ্য, হাতে মাছ নিয়ে প্রচারে নেমে পড়লেন রাজনৈতিক নেতারা। যেন উৎসবের রঙে মিশে গেল ভোটের কৌশল, আর মাছে-ভাতে বাঙালির আবেগ হয়ে উঠল রাজনৈতিক অস্ত্র।
বুধবার সকালে কলকাতা বন্দরে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ হাতে মাছ ঝুলিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন প্রচারে। তাঁর বক্তব্য, “মাছ মানেই বাংলা, আর বাংলার সঙ্গে মাছের সম্পর্ক অটুট। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সংস্কৃতিকে আরও সম্মান দেওয়া হবে।” তৃণমূলের ‘বাঙালি-বিরোধী’ তকমাকে খণ্ডন করতেই এই অভিনব প্রচার বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে পাল্টা জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেনি তৃণমূলও। টালিগঞ্জের প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস রুই মাছ হাতে নিয়ে মিছিলে শামিল হন। তাঁর কথায়, “আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। আমাদের খাদ্যাভ্যাস কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তার প্রতিবাদ হবেই।” বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মাছ বিক্রি ও খাওয়ার উপর বাধা রয়েছে, এমন অভিযোগও তোলেন তিনি।
এই ‘মৎস্য রাজনীতি’-র কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগে থেকেই মাছ নিয়ে দুই পক্ষের বাকযুদ্ধ তুঙ্গে। মোদীর অভিযোগ, বাংলায় মাছ উৎপাদন কমে গিয়ে বাইরে থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এর জবাবে মমতার দাবি, বাংলার মৎস্য উৎপাদন দেশের সেরাদের মধ্যে অন্যতম।
এদিন কলকাতায় এসে কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি-ও যোগ দেন এই আবহে। হাস্যরস মিশিয়ে তিনি বলেন, “ইলিশ এনে দিন, আমি কাঁটা বেছে খাইয়ে দেবো। আমরা মাছ-মাংসের বিরুদ্ধে নই।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক প্রচারে এক অন্য মাত্রা যোগ হয়।
আসলে, মাছ এখানে শুধু খাদ্য নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, পরিচয় ও আবেগের প্রতীক। সেই আবেগকেই কেন্দ্র করে ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে। কেউ মাছ হাতে নিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে তারা বাঙালির পাশে, আবার কেউ মাছের অভাব দেখিয়ে শাসকের সমালোচনা করছে।
নববর্ষের এই উৎসবমুখর দিনে তাই স্পষ্ট, বাংলার রাজনীতি এখন শুধু মঞ্চে নয়, রাস্তায়, বাজারে, এমনকি থালার উপরও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই প্রশ্ন, কারা সত্যিই “মাছে-ভাতে বাঙালি”-র প্রতিনিধি?
