
ভোটের ঠিক মুখে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার রাজনৈতিক আবহ। শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আয়কর দফতরের (Income Tax Department) হানা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ভবানীপুর এলাকার গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটির ট্রাস্ট সদস্য মিরাজ শাহের (Miraj Shah) বাড়িতে তল্লাশি অভিযান, যিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন প্রস্তাবকদের একজন বলে পরিচিত।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেন ও নথিপত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। ভোরবেলা থেকেই কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা মিরাজ শাহের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। একাধিক নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস খতিয়ে দেখা হয় বলে জানা গেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি।
একই দিনে কলকাতার আরও কয়েকটি জায়গায় আয়কর ও কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে সল্টলেক, মিডলটন স্ট্রিটসহ একাধিক অভিজাত এলাকা। নিরাপত্তার কারণে কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং সাময়িকভাবে চলাচলে নিয়ন্ত্রণও আনা হয়।
এই ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে আরও কয়েকটি অভিযান। রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও পার্টি অফিসে তল্লাশির খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একই সময়ে কালীঘাট সংলগ্ন এলাকায় আরও এক তৃণমূল নেতা কুমার সাহার বাড়িতেও তল্লাশি চলে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। দলের বক্তব্য, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী শিবিরকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। কর্মী-সমর্থকরাও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখান এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের দাবি, এই অভিযান সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই এবং নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ভোটের আগে একের পর এক এই ধরনের অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত এগোবে, ততই এই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। সত্যিই কি আর্থিক অনিয়মের বড় কোনো সূত্র সামনে আসবে, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক সংঘাতসেই প্রশ্ন ঘিরেই সরগরম বাংলা রাজনীতি।
