
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ফের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। নর্থ ব্লক সূত্রে জানা যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদী সরকার খুব শিগগিরই আরও এক দফা ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করতে পারে, যা ২% থেকে ৪% পর্যন্ত হতে পারে। আর এই সম্ভাব্য ঘোষণাকে ঘিরেই সরগরম রাজনৈতিক মহল বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ।
প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, মূল্যবৃদ্ধি সূচক (CPI-IW) এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ৫০% ছাড়িয়ে ৫৩%–৫৪% এর মধ্যে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নতুন হারে ডিএ কার্যকর হলে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মাসিক আয়েও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটবে।
উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যাঁদের বেসিক বেতন ১৮,০০০ টাকা, তাঁদের মাসিক আয় প্রায় ৩৬০ থেকে ৫৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। একইভাবে, ৫৬,১০০ টাকা বেসিক বেতনধারীরা মাসে ১,১০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত পাবেন। উচ্চপদস্থ কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ৫,০০০ থেকে ৭,৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে হিসাব বলছে।
সরকারি মহলের একাংশ মনে করছে, অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার আগেই এটি একটি অন্তর্বর্তী আর্থিক স্বস্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে। কমিশনের সুপারিশ ২০২৭ সালের মধ্যে আসার সম্ভাবনা থাকলেও, এর প্রভাব ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই কার্যকর ধরা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এই ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ডিএ ইস্যু বারবার রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না দেওয়া একটি বড় ইস্যু। অন্যদিকে শাসক শিবির পাল্টা দাবি করছে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি ভিন্ন।
কেন্দ্র যদি ভোটের সময় ফের ডিএ বৃদ্ধি করে, তবে তা পরোক্ষভাবে রাজ্যের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। কারণ সরকারি কর্মচারীদের অসন্তোষ ইতিমধ্যেই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু হয়ে আছে।
এদিকে বিরোধী নেতারা আবারও এই ইস্যুকে সামনে এনে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র যেখানে ধাপে ধাপে ডিএ বাড়াচ্ছে, সেখানে রাজ্যে কর্মচারীরা বঞ্চিত।
এই ধরনের আর্থিক ঘোষণা শুধু কর্মচারীদের পকেটে প্রভাব ফেলে না, ভোটের আগে জনমতেও তার পরোক্ষ প্রভাব পড়ে। ফলে ডিএ বৃদ্ধি এখন আর শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি ক্রমশ রাজনৈতিক হাতিয়ারেও পরিণত হচ্ছে।
কেন্দ্রের সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্ত শুধু সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর নয়, বরং বাংলার ভোট-রাজনীতিতেও নতুন চাপের সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
