
মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে ফের উত্তাল দেশের রাজনৈতিক মহল। লোকসভায় ভোটাভুটির ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সব দলের সাংসদদের উদ্দেশে আবেগঘন ও কঠোর বার্তা দিয়ে বিলটির পক্ষে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য “দেশের লক্ষ লক্ষ নারীর নজর আজ সংসদের দিকে। তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না।”
নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এত বছর কেটে গেলেও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনও অপ্রতুল। তাই এই বিল শুধুমাত্র আইন নয়, এটি “ঐতিহাসিক সামাজিক পরিবর্তনের সুযোগ”।
সরকারের দাবি, এই বিল কার্যকর হলে সংসদ ও বিধানসভাগুলিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রস্তাবকে বাস্তবায়নের দিকেই এখন সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি শাসক শিবিরের।
তবে বিরোধীদের একাংশ এই বিলকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, নারী সংরক্ষণের বিষয়টিকে আসন পুনর্বিন্যাস এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত রাজনৈতিক হিসাবের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা প্রকৃত উদ্দেশ্যকে আড়াল করছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।
এই বিতর্কের মধ্যেই লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে হলে সরকারকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হবে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সমীকরণ।
এদিকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নারী সংরক্ষণকে তিনি সমর্থন করলেও, এর সঙ্গে জনবিন্যাস ও আসন পুনর্বিন্যাস জুড়ে দেওয়া হলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।
এই বিল শুধুমাত্র নারী অধিকার নয়, আগামী দিনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণেও বড় ভূমিকা নিতে পারে। তাই ভোটাভুটির দিকে এখন নজর গোটা দেশের।
সংসদে আজকের সিদ্ধান্ত শুধু একটি বিল পাস বা বাতিল নয় এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক মানচিত্রকেও প্রভাবিত করতে পারে। এখন প্রশ্ন একটাই ঐতিহাসিক এই বিল কি শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত সমর্থন পাবে, নাকি ফের নতুন বিতর্কে আটকে যাবে নারী সংরক্ষণের স্বপ্ন?
