
মণিপুরে নতুন করে জাতিগত অশান্তির আবহের মধ্যেই এবার জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC) চালুর ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ঝড়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, বিদেশিদের শনাক্ত করতে মণিপুরে NRC প্রক্রিয়া কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ।
বর্তমানে ভারতে শুধুমাত্র অসমেই NRC কার্যকর হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সেই প্রেক্ষাপট টেনে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত সংঘাত ও অনুপ্রবেশ সমস্যার সমাধানেই এই পদক্ষেপ জরুরি। সরকার সূত্রে জানা গেছে, এই বিষয়ে অসমের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গেও প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের মণিপুরে ডেকে নিয়ে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া আরও এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, আসলে কাদের লক্ষ্য করে এই NRC? বিশেষ করে মণিপুরের কুকি ও মেইতেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে আরও সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেইতেই সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে যে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। অন্যদিকে কুকি সম্প্রদায়ের দাবি, তাদের অনেকেই বহু দশক ধরে মণিপুরে বসবাস করছেন এবং তাঁদের “বিদেশি” বলে চিহ্নিত করা হলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মণিপুর ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত জটিল একটি রাজ্য। একদিকে উপত্যকায় মেইতেই জনগোষ্ঠীর প্রভাব, অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে কুকি সম্প্রদায়ের আধিপত্য, এই দুইয়ের সংঘাতই দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত করে রেখেছে রাজ্যকে।
আইন বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি রাজ্য এককভাবে NRC কার্যকর করতে পারে কি না। তাঁদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া কার্যত অসম্ভব। কেন্দ্র সরকারও অতীতে একাধিকবার জানিয়েছে, সমগ্র দেশে NRC চালুর কোনও পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
এই পরিস্থিতিতে মণিপুর সরকারের ঘোষণা শুধু রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, বরং নতুন করে অশান্তির আশঙ্কাও বাড়িয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
NRC ইস্যুতে আবারও উত্তাল মণিপুর। প্রশ্ন উঠছে, এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই শান্তি ফেরাবে, নাকি নতুন করে আগুন জ্বালাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই অশান্ত রাজ্যে?
