
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি কার্যত বিরোধী জোটের ঐক্যের বার্তা দিলেন।
রবিবার নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে অখিলেশ লেখেন “এক অকেলি লড় জায়েগি, জিতেগি অর বড় জায়েগি!” অর্থাৎ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই লড়াই করে জয়ী হবেন এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
অখিলেশ তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূলের সরকারের ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে। তাঁর মতে, দ্বিতীয় দফার পর সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে “বুলন্দ ইমারত” অর্থাৎ শক্তিশালী সরকার গড়বে তৃণমূল কংগ্রেস। পোস্টের শেষে তিনি স্পষ্ট লেখেন “দিদি হ্যায়, দিদি রহেগি!”, যা কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থার প্রকাশ।
এই বার্তার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশেষ করে যখন জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলি একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যের প্রভাবশালী নেতার এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অখিলেশ যাদবের এই মন্তব্য শুধু সমর্থনের বার্তা নয়, বরং বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বাংলার ভোটকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দলগুলির মধ্যে যে নীরব সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে, এই পোস্ট সেই ইঙ্গিতকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল শিবির ইতিমধ্যেই এই সমর্থনকে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছে। দলের একাংশের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে, যার প্রতিফলন এই ধরনের সমর্থনে দেখা যাচ্ছে।
তবে বিজেপি শিবির এই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ হলেও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন বার্তা জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে অখিলেশ যাদবের এই “দিদি বার্তা” বাংলার নির্বাচনী লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।
