
বাংলায় দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, এই বাস্তবতা এখনও যেন পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার ঝড় উঠেছে রাজ্য জুড়ে।
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “রাতে ঘুমোতে গিয়েছিলাম, ভোরে সাংবাদিকরা ফোন করে জাগিয়ে দিল। আমরা সত্যিই ক্ষমতায় এসেছি এটা এখনও মাথায় ঢুকছে না।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, এত বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেও গভীরভাবে বিস্মিত করেছে।
তিনি আরও জানান, হঠাৎ একদিন তাঁর বাড়ির সামনে পাইলট কার এসে দাঁড়ায় এবং একজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে স্যালুট করেন। এই ঘটনায় তিনি প্রথমে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। শমীক বলেন, “আমি তো স্কুটিতে ঘুরে বেড়াতাম। কখনও নিরাপত্তা নিইনি। হঠাৎ এত পরিবর্তন কেন হচ্ছে বুঝতে পারছিলাম না। আমি তো নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছি, আমি কে এখন?”
দলের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, এক সময় সাধারণভাবে চলাফেরা করতেন, মিডিয়া অফিসে স্কুটারের পিছনে বসে যেতেন। আজ সেই জায়গা থেকে রাজ্যের শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছানো তাঁর কাছে এখনও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী ফল নয়, বরং রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এনেছে। আর সেই পরিবর্তনের মানসিক প্রভাব এখন দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়েও জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্তের মতো নামের পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্যের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি।
এই ধরনের ব্যক্তিগত বিস্ময় ও বক্তব্য প্রমাণ করছে যে ক্ষমতার পরিবর্তন কতটা দ্রুত এবং গভীর হতে পারে। এখন সকলের নজর আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে, কার নেতৃত্বে চলবে নতুন সরকার, সেই প্রশ্নেই উত্তাল বাংলা রাজনীতি।
