
উত্তর ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এবার বসিরহাটে এক বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল। আহত বিজেপি কর্মীর নাম রোহিত রায়। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে বসিরহাটে এই ঘটনা ঘটে। বিজেপির দাবি, রোহিত রায় এলাকায় দলীয় পতাকা লাগাচ্ছিলেন। সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আহত রোহিত হাসপাতালের বেড থেকে দাবি করেছেন, “চার-পাঁচজন এসে প্রথমে গুলি চালায়। পরে ফের এলোপাথাড়ি গুলি করা হয়।” তিনি কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বিজেপি অভিযোগ করেছে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে একই রাতে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তদন্তকারীদের দাবি, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। একটি বাইক থেকে গুলি চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। হামলাকারীদের মাথায় হেলমেট ছিল এবং বাইকের নম্বর প্লেটও ছিল না বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
চন্দ্রনাথের গাড়ির কাচে একাধিক বুলেটের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং সিআইডিও তদন্তে নেমেছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বিজেপি ও কংগ্রেস। বিজেপি নেতাদের দাবি, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা Ashok Lahiri চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরপর গুলি ও বোমাবাজির ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
