
পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের পাটটাড় গ্রামে বিজেপির এক বুথ সভাপতির রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত খুন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম সঞ্জয় মাহাতো। তিনি স্থানীয়ভাবে বিজেপির বুথ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত মঙ্গলবার সকালে গ্রামের একটি নির্জন এলাকা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কীভাবে এবং কেন তাঁর মৃত্যু হল। পরিবারের দাবি, সঞ্জয় মাহাতোকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তাঁর দাদা রঞ্জিত মাহাতো বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “এটা কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। আমার ভাইকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি এলাকায় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতো মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনও ধরনের অশান্তি যাতে না ছড়ায়, তার জন্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
পুরুলিয়ার এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।
